সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা পার্ট ২

 গল্পঃ বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা পার্ট ২

নিধিঃ ওই ছি ছি। এইটা কই আনলি, কেমন বাড়ি
আমিঃ ওই মেডাম এইটা আপনার বাবার মতো এসি লাগানো বাড়ি না বুঝলেন এই খানে শুয়ে শুয়ে নিশ্চিন্তে চাঁদ দেখা যায়। দাঁরা আনছি।
নিধিঃ ওই কি আনবি নাম বল।
আমিঃ আগে আনি তারপর দেখিস।
ও দাদু কই গেলা্…
দাদুঃ কে রে ডাকে?
আমিঃ দাদু আমি তন্নয়।
দাদুঃ ওহহ কতদিন পর আসলি ভিতরে যা।
আমিঃ যামুনা ১০০ টাকার ফাটাফাটি কয়টা নিয়া আসো তারাতারি।
দাদুঃ হুম এই নে ধর।
আমিঃ ধরো এই নাও টাকা।
দাদাঃ এইটা কে রে আগে তো দেখি নাই।
আমিঃ এইটা পরী। উঁরে যাওয়ার সময় আমারে দেইখা নেমে আসছে, আর আমি তোমার জিনিস খাওয়াইতে নিয়া আসছি হি হি।
দাদুঃ এইখানে কেন নিয়ে আসছস, রাতে যায়গাটা ভালো না তুই তো জানিস।
আমিঃ দুর তুমি টেনসন কইরো না আমি তো আছি নাকি।
দাদুঃ আচ্ছা ভালো করে থাকিস।
আমিঃ হুম হুম গেলাম।
দাদুঃ কোন সমস্যা হলে আমার এই খানে আসিস।
নিধিরে নিয়া চলে আসলাম নদীর ধারে বসে পড়লাম।
আমিঃ নিধি বেগম এইবার চোখ বন্ধ করেন।
নিধিঃ কেন?
আমিঃ আরে করো না প্লিজ।
নিধিঃ আচ্ছা।
আমিঃ চোখ খুলেন এইবার।
নিধিঃ ঐ কি এগুলা?
আমিঃ সন্দেশ আমার অনেক ভালো লাগে,
নিধিঃ ছি। কেমোন দেখতে।
আমিঃ দেখতে যেমনি হোক একদম খাটি দুধ দিয়ে তৈরি এইরকম পিউর জিনিস। এইখানে ছাড়া আর পাবা না।
নিধিঃ না তুই খা আমি খামু না।
আমিঃ ওকে না খা, আমিই খামু হেব্বি জিনিস মিস করলিরে। আহা কী স্বাদ।
নিধিঃ আচ্ছা একটু দে।
আমিঃ তুই না খাবি না বললি,
নিধিঃ না এখন দে।
আমিঃ এই নে ধর।
নিধিঃ ওয়াও এত্ত মজা,
আমিঃ হে মেডাম এত্তই মজা।
আমার হাত থেকে গপ গপ করে নিয়ে সব খেতে লাগল। আর আমি তো তার সেই মিস্টি মুখ খানা দেখছি।
নিধিঃ তন্নয় সব খেয়ে ফেলেছি, আরো খামু।
আমিঃ ওকে চল আরো নিয়ে আসি…
আমিঃ দাদু ও দাদু আরো সন্দেশ দাও।
দাদুঃ কতো টাকার দিবো বল।
আমিঃ ১০০ টাকার ই দাও।
আমিঃ কিরে তুই মেয়ে না রাক্ষসী হুম?
নিধিঃ ওই আমি খামু তোর কি?
আমিঃ হুম খা আমার আবার কী।
দাদুঃ মা তোমার নাম কি?
আমিঃ আদরের দুলালী দাদু বড়লোকের মাইয়া, আমার আর তোমার মতো ফকির না।
নিধিঃ ওই হারামি চুপ করবি আমার নাম নিধি দাদু,
দাদুঃ খুব ভালো নাম মা।
আমিঃ ওই আমি তো তোমার নিয়মিত কাস্টমার ছিলাম আমারে তো জিবনেও এমন করে প্রশংসা করো নাই।
দাদুঃ তুই কি আর এমনি এমনি কাস্টমার ছিলি, চুরি করে ও তো খাইতি।
আমিঃ ওই পড়ে টাকা দিতাম না হম্ম?
নিধিঃ দাদু তার মানে তন্নয় চোর?
দাদুঃ না রে মা পোলাডা খুব ভালো।
আমিঃ হইছে হইছে গেলাম আমি।
আবার নদীর পাড়ে গেলাম বসে বসে দুস্টুমি করছি।
আমিঃ নিধি চল তোরে সব ঘুরে দেখাই।
নিধিঃ তন্নয় ওই গুলো কী রে?
আমিঃ ওই গুলো কচুরি ফুল।
নিধিঃ আমি নিবো।
আমিঃ এহহ কইলেই হইলো? কত্ত সাপ থাকে জানিস।
নিধিঃ ওকে দাঁরা আব্বুকে ফোন করছি।
আমিঃ না না দাঁরা আনছি…


আমিঃ এই নে ধর।
নিধিঃ হি হি থেংকু। আর শোন নৌকায় উঠব।
আমিঃ আচ্ছা চোল উঠাচ্ছি তোকে।
নৌকাতে বসে আছি আমি আর নিধি। হঠাত নিধি বলল…
নিধিঃ তন্নয় এই খানের সবাই তোমারে কেমনে চিনে?
আমিঃ আরে পাগলি পাশের গ্রামে আমার নানুর বাসা। আগে সব খানে ঘুরতাম তাই চিনে। নানু নানি মারা যাবার পর আর আসা হয়নি।
নিধিঃ ও আচ্ছা।
আমিঃ হায় হায় অনেক দূরে চলে আসছি তো। নিধি কিছু মনে না করলে একটা কথা বলি।
নিধিঃ হুম বলো।
আমিঃ আমাকে ২ হাজার টাকা দিবা। আমার ফ্রেন্ড শুভ কে দিবো। ওদের পরিবারটা অনেক গরীব। আমি পড়ে দিয়ে দিব তোমাকে।
নিধিঃ আরে গাধা এইটা আবার দিতে হবে!
চলে আসলাম দেখি শুভ বসে আছে নদীর পারে। নিধি শুভ কে টাকা দিলো ৫ হাজার শুভর চোখ দিয়ে পানি পরছে। আমি জানি এটা সুখের কান্না।
নিধিঃ তন্নয় আমি নতুন করে আরো একবার তোমাকে চিনলাম আজকে অনেক কিছু শিখলাম। এসি রুমে, এসি গাড়িতে কোন সুখ নেই। সব ভালোবাসা সুখ সব এই প্রকৃতির মধ্যেই
আমিঃ হি হি চলো। এবার ফিরে যাই অন্ধকার চার দিকে।
কেমনে যাবো সেটাই ভাবছি চারদিকে ঝি ঝি পোকার ডাক মাঝে মাঝে শিয়াল মামা ডেকে চলছে।
আমিঃ নিধি তোমার ভয় করছে নাকি? আমি আছি না কিচ্ছু হবে না। নিধি আমার ডান হাতটা চেপে ধরলো।
নিধিঃ দেখলাম আমাদের সুন্দর প্রকৃতি টা ও রাতের বেলা কত্ত ভয়ংকর রুপ ধারণ করে।
হঠাত কিছু দূরে ৫, ৭ জনের আসার শব্দ পেলাম এবার নিধি ভয়ে আমার এক সাইট জরাই ধরছে নিধিকে বললাম ভয় পেও না আমি আছি চলো ওই ঝোপের পাশে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তোমাকেও কেউ ভালো না বেসে পারে?

 বিস্ময়ে আমি প্রায়ই ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করতাম, 'তোমাকেও কেউ ভালো না বেসে পারে?!'  সে হাসতো। ছেলেটা নিয়ম করে তার হৃদয়ভাঙ্গার গল্প শোনাতো আমায়।কী সুনিপুণ ভাবে জনৈক ভদ্রমহিলা তার প্রেমিক হৃদয়টিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছিলো।আমি তার সব কথাই ভারী মনোযোগ দিয়ে শুনতাম, খুব ভালোবাসতাম তো.. তাই বোধহয়। তার পুরনো দুঃখ, নতুন ব্যর্থতা,  সমসাময়িক দোটানা এবং হঠাৎ হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা পাগলামি, প্রতিটা কথাই আমায় বাধ্য করতো নতুন করে তার প্রেমে পড়তে।  তবুও, সে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আমায় একটি নারীর কথা বলতো।একটি নারী, যে নারী আমি নই, যে নারীকে সে বরং ভালোবেসেছে, ভালোবেসে নিঃস্ব হয়ে গেছে, যে নারীকে নিয়ে সে জীবন কাটাতে চেয়েছিলো৷ এমন একটি নারী, যে আমি নই, যে কখনো আমি হবো না।  আমি সব শুনতাম, কখনো অন্যমনস্ক হয়ে, কখনো খুব বিরক্ত হয়ে, কখনোবা ভীষণ কান্না চেপে রেখে।  সে বলতো, আমি খুব সাবধানে চোখের জল মুছতাম, যাতে সে না বোঝে, যাতে সে না জানে।  আর ভাবতাম, এমন পুরুষকে যে নারী ভালোবাসতে পারেনি, সে কি এই ধুলোভরা মর্ত্যের কেউ, নাকি দেবী?  তাকে আমি পাইনি, নতুন করে তা বলার অপেক্ষা বোধ করি রাখে...

কি করে বুঝবেন আপনি কেউ’কে ভালোবাসেন !

 কি করে বুঝবেন আপনি কেউ’কে ভালোবাসেন ! ভালোবাসা একটি দুরন্ত ঘোড়া । কখন ঘোড়াটি চলতে শুরু, বোঝা যায় না । কোথায় যাচ্ছে, তাও বোঝা যায় না । তারপরেও মানুষ ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে । একটু বেশি করে বললে মানুষ পড়তে চায় । ভালোবাসার শুরু পরিবারের বন্ধন থেকে । বড় হতে হতেই এটি পাওয়ার জন্যে মন মস্তিষ্ক উম্মুক্ত হয়ে থাকে । চাইলেই এটি চাওয়া থেকে যেমন আমরা বের হতে পারি না, তেমনি এটির ফাঁদে পড়ে বেরিয়ে যেতে একই মন আবার ছুটতে থাকে বিপরীত মুখে । এতো কিছুর পরেও মানুষ ভালোবাসতে চায়, ভালোবাসা পেতে চায় । কিন্তু কি করে বুঝবেন, আপনি সত্যিই কেউকে ভালোবাসেন ! একেকজনের পরিস্থিতির ধরন একেক রকম হলেও আপাত ভাবে কিছু কমন বৈশিষ্ট্য থাকে, যা দেখে বুঝতে পারবেন আপনি ভালোবাসার জালে পড়ে গেছেন নাকি ভালবাসা আপনাকে জালে ফেলেছে !  এক. ভালোবাসার কোনো কারণ নেই, ভালোবাসার কোনো কারণ থাকতে নেই । ভালোবাসার কারণ খুঁজতে নেই । ভালোবাসেন, এটাই প্রধান এবং একমাত্র কারণ । কেন ভালোবাসেন, কারণ জেনে গেলে গেলে ওটা ভালোবাসা নয় । কারণ জেনে গেলে - হয় মানুষটিকে পছন্দ করেন অথবা মানুষটির সাথে সময়টি সাময়িক ভোগ করেন !  দুই. ভালোবাসার মানুষের চোখ...