সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কি করে বুঝবেন আপনি কেউ’কে ভালোবাসেন !

 কি করে বুঝবেন আপনি কেউ’কে ভালোবাসেন !



ভালোবাসা একটি দুরন্ত ঘোড়া । কখন ঘোড়াটি চলতে শুরু, বোঝা যায় না । কোথায় যাচ্ছে, তাও বোঝা যায় না । তারপরেও মানুষ ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে । একটু বেশি করে বললে মানুষ পড়তে চায় । ভালোবাসার শুরু পরিবারের বন্ধন থেকে । বড় হতে হতেই এটি পাওয়ার জন্যে মন মস্তিষ্ক উম্মুক্ত হয়ে থাকে । চাইলেই এটি চাওয়া থেকে যেমন আমরা বের হতে পারি না, তেমনি এটির ফাঁদে পড়ে বেরিয়ে যেতে একই মন আবার ছুটতে থাকে বিপরীত মুখে । এতো কিছুর পরেও মানুষ ভালোবাসতে চায়, ভালোবাসা পেতে চায় । কিন্তু কি করে বুঝবেন, আপনি সত্যিই কেউকে ভালোবাসেন ! একেকজনের পরিস্থিতির ধরন একেক রকম হলেও আপাত ভাবে কিছু কমন বৈশিষ্ট্য থাকে, যা দেখে বুঝতে পারবেন আপনি ভালোবাসার জালে পড়ে গেছেন নাকি ভালবাসা আপনাকে জালে ফেলেছে ! 


এক. ভালোবাসার কোনো কারণ নেই, ভালোবাসার কোনো কারণ থাকতে নেই । ভালোবাসার কারণ খুঁজতে নেই । ভালোবাসেন, এটাই প্রধান এবং একমাত্র কারণ । কেন ভালোবাসেন, কারণ জেনে গেলে গেলে ওটা ভালোবাসা নয় । কারণ জেনে গেলে - হয় মানুষটিকে পছন্দ করেন অথবা মানুষটির সাথে সময়টি সাময়িক ভোগ করেন ! 


দুই. ভালোবাসার মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে । সেই দেখায় মানুষটির ভালো মন্দ কিছু খোঁজা হয় না । সে চোখে নিজেকে দেখা হয় বার বার । ভালোবাসার মানুষটির চোখের ভেতর নিজেকে বসিয়ে দেখতে ভালো লাগে তখন । এমনকি মানুষটি না তাকালেও তাকে দেখতে ইচ্ছে করে মন । 


তিন. ভালোবাসা একধরনের এডভেঞ্চার । এডভেঞ্চার মনে দুটো জিনিস দেয় - কৌতূহল এবং থ্রিল । কেউকে ভালোবাসলে মনে হয় এমন থ্রিলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া । একটা অনিশ্চয়তার দোলাচল থাকে । 


চার. কেউকে ভালোবাসলে মানুষটির দৈনন্দিন রুটিন বদলে যায় । যে কাজ আগে বোরিং লাগতো, সে কাজও সে অনায়াসে করে তখন । বরং মানুষটির সান্নিধ্য এবং সান্নিধ্যের অপেক্ষা, দুটোই তাকে আনন্দ দেয় । বিনিময়ে নিজের রুটিন বদলে গেলেও কেয়ার করে না । কারণ মস্তিষ্ক তাকে সিগন্যাল দেয়, তুমি অনেক ভালো আছো ! 


পাঁচ. ভালোবাসলে মানুষটিকে বাহিরে কোনো বিচার না করলেও মনে মনে তার সম্পর্কে আরও বেশি জানতে কৌতূহল হয়ে ওঠে । 


ছয়. ভালোবাসার মানুষটির সবকিছু ভালো লাগতে থাকে । তার সবকিছু আকর্ষণীয় মনে হয় । ময়লা কাপড় পরা যাকে দেখলে মুখে ভেংচি কাটতো, ভালোবাসার মানুষের সেই ময়লা কাপড়টাও তখন সুন্দর মনে হয় । এক সপ্তাহ সেইভ করে না এলে আগে বলতো দেবদাস, ভালোবাসায় পড়লে বলে - তোমাকে রাজকুমার লাগছে । যা আগে ছিল বিরূপ, ভালোবাসায় সেটা রূপের মনে হয় । 


সাত. ভালোবাসলে মানুষটির কষ্ট নিজেকেও কষ্ট দেয়, মানুষটির ভালো থাকা মনে মনে সর্বদা কামনা করে । তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জেলাস, ইনফেরিওরিটি কোনোটাই আসে না মনে । তার ভালো থাকায় মন আত্মসমর্পণ করে । 


আট. ভালোবাসায় পড়লে কারো সান্নিধ্যের এক মাস মনে হয় এক ঘন্টা । সময় দ্রুত চলে যায় । 


নয়. ভালেবাসায় পড়লে মানুষটির সাথে দীর্ঘ সময় কাটানোর প্ল্যানের চেয়ে সামনে কোনদিন দেখা হবে, সেদিন কি করবে, কি পরবে, কি খাবে এমন সব ইমিডিয়েট পরিকল্পনা মাথায় ঘুরে । বেশি দূরের পরিকল্পনা ভালোবাসা করে না । ভালোবাসা মুহূর্তকে ধরে, মুহূর্তকে উপভোগ করতে চায় । 


দশ. ভালোবাসার কোনো ভুল নেই । ভালোবাসার মানুষের সবকিছুই সঠিক মনে হয় । ভালোবাসায় রেশনাল বা কগনিটিভ ব্রেইন পার্ট থেমে যায় । ইমোশনাল ব্রেইনের বিশাল অংশ তখন মস্তিষ্ককে চালায় । 


এগারো. ভালোবাসায় পড়লে নিজের এবং আশেপাশের মানুষের প্রতি নজর এবং যত্ন কমে যায় । অন্যদের আশেপাশে থেকেও নিজে আড়াল হয়ে যায় । 


বারো. ভালোবাসায় পড়লে ভালোবাসার মানুষকে স্পর্শ করতে ইচ্ছে করে, প্রবল ভাবে আদর করতে ইচ্ছে করে ! আদরের ভাবনাটুকুও তাকে সারাদিনের আনন্দে ডুবিয়ে রাখে । কেন আদর করতে ইচ্ছে করছে, সে জানে না ! ইচ্ছেটা থেমে থেমে আসে ! 


তেরো. ভালোবাসায় মুড সবসময় বুস্ট আপ থাকে । চিন্তায় নেগেটিভিটি কমে যায় । সবকিছুর মধ্যে পজিটিভিটি দেখতে পায়, কিন্তু মস্তিষ্ক সে পসিটিভিটি এনালাইসিস করতে চায় না । 


চোদ্দ. ভালোবাসা মানুষটিকে সিঙ্গেল মাইন্ডেড করে সত্য । সাথে কেউকে ভালবাসলে চারপাশের অন্যদের প্রতি মায়া দরদ বেড়ে যায় । 


ভালোবাসায় পড়লে হঠাৎ মনে হয় জীবনের কোথাও যেন একটি অর্থবহ বিন্দু খুঁজে পায়, যদিও জানে না বিন্দুটি কি । একটি পূর্ণতা আঁকড়ে ধরে । একটি বিন্দুতে নিজেকে দেখতে পায় । আর এই বিন্দুটির নাম ভালেবাসা । এবং আপনি কেউকে ভালোবাসেন ।


Opurbo Chowdhury 


© অপূর্ব চৌধুরী । চিকিৎসক এবং লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড । গ্রন্থ ৭ । উল্লেখযোগ্য বই : অনুকথা, জীবন গদ্য, বৃত্ত ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তোমাকেও কেউ ভালো না বেসে পারে?

 বিস্ময়ে আমি প্রায়ই ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করতাম, 'তোমাকেও কেউ ভালো না বেসে পারে?!'  সে হাসতো। ছেলেটা নিয়ম করে তার হৃদয়ভাঙ্গার গল্প শোনাতো আমায়।কী সুনিপুণ ভাবে জনৈক ভদ্রমহিলা তার প্রেমিক হৃদয়টিকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছিলো।আমি তার সব কথাই ভারী মনোযোগ দিয়ে শুনতাম, খুব ভালোবাসতাম তো.. তাই বোধহয়। তার পুরনো দুঃখ, নতুন ব্যর্থতা,  সমসাময়িক দোটানা এবং হঠাৎ হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা পাগলামি, প্রতিটা কথাই আমায় বাধ্য করতো নতুন করে তার প্রেমে পড়তে।  তবুও, সে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আমায় একটি নারীর কথা বলতো।একটি নারী, যে নারী আমি নই, যে নারীকে সে বরং ভালোবেসেছে, ভালোবেসে নিঃস্ব হয়ে গেছে, যে নারীকে নিয়ে সে জীবন কাটাতে চেয়েছিলো৷ এমন একটি নারী, যে আমি নই, যে কখনো আমি হবো না।  আমি সব শুনতাম, কখনো অন্যমনস্ক হয়ে, কখনো খুব বিরক্ত হয়ে, কখনোবা ভীষণ কান্না চেপে রেখে।  সে বলতো, আমি খুব সাবধানে চোখের জল মুছতাম, যাতে সে না বোঝে, যাতে সে না জানে।  আর ভাবতাম, এমন পুরুষকে যে নারী ভালোবাসতে পারেনি, সে কি এই ধুলোভরা মর্ত্যের কেউ, নাকি দেবী?  তাকে আমি পাইনি, নতুন করে তা বলার অপেক্ষা বোধ করি রাখে...

বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা পার্ট ২

  গল্পঃ বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা পার্ট ২ বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা পার্ট-1 নিধিঃ ওই ছি ছি। এইটা কই আনলি, কেমন বাড়ি আমিঃ ওই মেডাম এইটা আপনার বাবার মতো এসি লাগানো বাড়ি না বুঝলেন এই খানে শুয়ে শুয়ে নিশ্চিন্তে চাঁদ দেখা যায়। দাঁরা আনছি। নিধিঃ ওই কি আনবি নাম বল। আমিঃ আগে আনি তারপর দেখিস। ও দাদু কই গেলা্… দাদুঃ কে রে ডাকে? আমিঃ দাদু আমি তন্নয়। দাদুঃ ওহহ কতদিন পর আসলি ভিতরে যা। আমিঃ যামুনা ১০০ টাকার ফাটাফাটি কয়টা নিয়া আসো তারাতারি। দাদুঃ হুম এই নে ধর। আমিঃ ধরো এই নাও টাকা। দাদাঃ এইটা কে রে আগে তো দেখি নাই। আমিঃ এইটা পরী। উঁরে যাওয়ার সময় আমারে দেইখা নেমে আসছে, আর আমি তোমার জিনিস খাওয়াইতে নিয়া আসছি হি হি। দাদুঃ এইখানে কেন নিয়ে আসছস, রাতে যায়গাটা ভালো না তুই তো জানিস। আমিঃ দুর তুমি টেনসন কইরো না আমি তো আছি নাকি। দাদুঃ আচ্ছা ভালো করে থাকিস। আমিঃ হুম হুম গেলাম। দাদুঃ কোন সমস্যা হলে আমার এই খানে আসিস। নিধিরে নিয়া চলে আসলাম নদীর ধারে বসে পড়লাম। আমিঃ নিধি বেগম এইবার চোখ বন্ধ করেন। নিধিঃ কেন? আমিঃ আরে করো না প্লিজ। নিধিঃ আচ্ছা। আমিঃ চোখ খুলেন এইবার। নিধিঃ ঐ কি এগুলা? আমিঃ সন্দেশ আমার অনেক ভালো লাগে,...